দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কারও সাক্ষাৎ পায়নি। পরে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার পর তারা রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনের স্থানে ফিরে আসে।
নিয়োগপত্রবঞ্চিত প্রার্থীরা রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন। পরে বেলা ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন তারা। একপর্যায়ে সেখান থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে যায়। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ায় বিকেলে তারা শাহবাগে ফিরে আসেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্য তানভীর রহমান বাপ্পা এ তথ্য জানান। আন্দোলনকারীদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও যারা নিয়োগপত্র পাননি, তাদের দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে। এ দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন।
‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’ প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রায় দেড় হাজার প্রার্থীর নিয়োগপত্র এখনো ইস্যু হয়নি। বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র না পাওয়ায় এসব প্রার্থীর মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সভায় নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। সভায় জানানো হয়, ১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।
এর আগে শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টেও একই তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য তিন জেলা বাদে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পরে ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। জেলা অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
এমএম/